খেজুরের
বৈজ্ঞানিক নাম-Phoenix dactylifera Linn. খোরমা খেজুর সাধারণতঃ মধ্যপ্রাচ্য অর্থাৎ
ইরান,ইরাক সৌদি আরব এবং পাকিস্তানে হয়ে থাকে। বৈজ্ঞানিক গবেষনায়, খোরমা খেজুর
পষ্টিকর ও যৌনশক্তি বর্দ্ধক। খেজুর বাংলাদেশের খুব বেশি পরিমাণে উৎপাদিত না হলেও খুবই পরিচিত একটি ফল। এ ফল মূলত সৌদি আরব ইরাক ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে উৎপাদিত হয়ে থাকে এছাড়া আমাদের এশিয়া মহাদেশের বিশেষ করে পাকিস্তান ভারত এবং বাংলাদেশ খুবই সামান্য পরিমাণে উৎপাদিত হয়। মুসলিম প্রধান দেশ গুলোতে এই ফলের খুব বেশি চাহিদা এবং কদর রয়েছে। ধর্মীয় দিকের তাগিদ ছাড়াও এই খেজুরের রয়েছে অসাধারণ পুষ্টিগুণ ঔষধিগুণ এবং উপকারিতা। তাই আজকের আর্টিকেলে খেজুর খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা তুলে ধরা হলো।
নিন্মে
বিস্তারিত আলোচনা করা হয়-
খেজুরের
পুষ্টিগুণ : খেজুর অতি মিষ্টিজাত ফল। এতে রয়েছে প্রচুর ক্যালোরি এবং রয়েছে প্রচুর
খাদ্যগুণ, যেমন ভিটামিন-বি,-সি, আয়রন এবং প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও
ক্যালসিয়াম, অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন-কে।
হৃদপিন্ড
: খেজুর হৃদপিণ্ডকে সুস্থ্য সবল রাখে এবং রক্তচাপের জন্য খুবই উপকারী। ভালো ঘুম
হতে সহায়তা করে৷
শারীরিক
শক্তিবৃদ্ধি : খেজুর সেবনে শারীরিক শক্তি যোগাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। শুকনো খেজুরের
শতকরা ৮০ ভাগই চিনি এবং সে কারণেই সরাসরি রক্তে চলে যায়। আর সে কারণেই শুকনো
খেজুরকে মরুভূমির গ্লুকোজ বলা হয়ে থাকে৷
বিশেষজ্ঞের
মতে, খেজুরে থাকা উচ্চ মাত্রার ভিটামিন-বি’ নার্ভকে শান্ত করে রক্তচাপ কমাতে
সহায়তা করে৷
মনের
প্রফোল্লতায় : খেজুরে রয়েছে অ্যামিনো অ্যাসিড ও ট্রিপটোফেন, যা সিরোটোনিন হরমোন
তৈরিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ এছাড়া এই মিষ্টি ফল মনে আনন্দের অনুভূতি ছড়িয়ে দেয়।
ফলে মনকে সতেজ রাখে।
কোষ্ঠকাঠিন্য
: খেজুর মানসিক চাপ, রাগ বা অন্য অনেক কারণেই হঠাৎ করে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়৷
আবার এর সঙ্গে পেট ব্যথাও হয়ে থাকে অনেক সময়৷ এরকম পরস্থিতিতে শুকনো খেজুর খেলে
খুব সহজে পেট পরিষ্কার হতে পারে৷ তবে সাথে প্রচুর পানি পান করতে হবে৷ একমাত্র তবেই
সঠিক ফল পাওয়া যাবে৷
অরুচি :
খেজুর রুচি বাড়াতে খেজুরের কোন তুলনা হয় না। অনেক শিশুরা তেমন একটা খেতে চায় না,
তাদেরকে নিয়মিত খেজুর খেতে দিলে রুচি ফিরে আসবে।
দৃষ্টিশক্তি
: খেজুরে পর্যাপ্ত ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ ফল হওয়া দৃষ্টিশক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেল বিদ্যমান থাকায় অনেক রোগ নিরাময় করা
সম্ভব। সাথে সাথে আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে সহায়তা করে।
ক্যান্সার
প্রতিরোধক : খেজুর বিভিন্ন ক্যান্সার থেকে শরীরকে সুস্থ রাখতে অনেক ভূমিকা পালন
করে থাকে। যেমন খেজুর লাংস ও ক্যাভিটি ক্যান্সার থেকে শরীরকে দূরে রাখতে সাহায্য
করে।
হজমকারক
: খেজুরের মধ্যে রয়েছে স্যলুবল এবং ইনস্যলুবল ফাইবার ও বিভিন্ন ধরণের অ্যামিনো
অ্যাসিড যা সহজে খাবার হজমে সহায়তা করে। এতে করে খাবার হজম সংক্রান্ত সমস্যা থেকে
রেহাই পাওয়া যায়।
কলেস্টোরল
: খেজুরে আছে ডায়েটরই ফাইবার যা কলেস্টোরল থেকে মুক্তি দেয়। ফলে ওজন বেশি বাড়ে
না, সঠিক ওজনে দেহকে সুন্দর রাখা যায়।
রোগ
প্রতিরোধক : খেজুর রোগ প্রতিরোধক হিসেবে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।ক্ষমতা বাড়ায়।
পক্ষঘাত এবং সব ধরনের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অবশকারী রোগের জন্য খেজুর খুবই উপকারী।
রক্তশূণ্যতায়
: খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। নিয়মিত কিছুদিন খেজুর সেবন করলে দেহের আয়রনের
অভাব পূরণ করে এবং রক্তস্বল্পতা রোগের হাত থেকে রক্ষা করে। যাদের এই রক্তস্বল্পতার
সমস্যা রয়েছে তাদের প্রতিদিন খেজুর খাওর অভ্যাস করা উচিত। কারণ, রক্তস্বল্পতা ও
শরীরের ক্ষয়রোধ করতে খেজুরের রয়েছে বিশেষ গুণ।
বার্ধক্যরোধক
: খেজুর সেবনে যৌবন বা তারুণ্য ধরে রাখে এবং যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি ও ঘনত্ব বাড়ায়।
সেবনবিধি
: প্রতিদিন ৬ থেকে ১৫ গ্রাম পর্যন্ত সেবন করা যায়।
খেজুরের পুষ্টিগুণঃ
খেজুর
একটি মিষ্টি জাতীয় ফল, এতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন পটাসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম
ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে সহ প্রচুর খাদ্য গুণ রয়েছে
যা আপনাকে প্রতিদিনের ক্যালরির চাহিদা পূরন করতে সাহায্য করে। আসুন এর পুষ্টিগুণ
গুলো জেনে নেই।
খেজুরের
উপকারিতা অপকারিতা পুষ্টিগুণ
প্রোটিন:
খেজুরে থাকা প্রোটিন আপিনার পেশী গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভিটামিন: খেজুর প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন রয়েছে বিশেষ করে
ভিটামিন b1 b2 b3 এবং b5। এছাড়াও ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি এর চাহিদা
পূরণের সহজ একটি মাধ্যম হচ্ছে খেজুর। খেজুর খাওয়ার ফলে দৃষ্টিশক্তি যেমন ভালো
থাকে তেমনি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
আয়রনঃ
আয়রন মানবদেহের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান বিশেষ করে নারীদের দেহে
আয়রনের চাহিদা পুরুষদের তুলনায় বেশি। আয়রনের অভাবে রক্তশুন্যতা দেখা দেয়। তাই
আয়রনের অভাব পূরণ করতে খেজুরের তুলনা নেই। এটি হৃদপিন্ডের কার্য ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। যাদের
হৃদপিণ্ড দুর্বল তাদের জন্য খেজুর একটি আদর্শ খাদ্য হতে পারে যা তার রোগ প্রতিরোধে
প্রতিশেধক হিসেবে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই কাজ করবে।
কোলেস্টরেল
এবং ফ্যাটঃ খেজুরে কোন বাড়তি চর্বি এবং কোলেষ্টরেল থাকে না বলে আপনি খেজুর খেলে
আপনার ওজন বেড়ে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকে না।
ক্যালসিয়ামঃ
খেজুরের রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম যা মানুষের হাড় গঠনে সহায়তা করে
থাকে। খেজুরের ক্যালসিয়াম শিশুদের জন্য খুবই উপকারী যা তাদের মারি গঠনে সহায়তা
করে। তাই আপনার শিশুকে খেজুর খেতে উদ্বুদ্ধ করুন।
ফাইবারঃ
খেজুরের প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে এবং এক গবেষণায় দেখা গেছে যারা নিয়মিত খেজুর
খান তাদের পেটের ক্যান্সারের ঝুঁকি কম।
খেজুরের ১৪ টি উপকারিতাঃ
১। খেজুর
পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন দূর করতে সাহায্য করে ।
.২। খেজুর শরীরে সোডিয়াম এবং পটাশিয়ামের সমতা রক্ষা করে ।
.৩। খেজুরের ক্যালসিয়াম
হাড়কে মজবুত করে।
৪। খেজুর
হৃৎপিণ্ডকে শক্তিশালী করে।
৫।
খেজুরের শরীরের শক্তি বর্ধক হিসেবে কাজ করে। এর শতকরা ৮০ ভাগই চিনি। তাই শুকনো
খেজুর বা খোরমাকে বলা হয় মরুভূমির গ্লুকোজ।
৬।
খেজুরে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সেরোটোনিন নামক হরমোন উৎপাদন করতে সহায়তা করে
যা মানুষকে মানসিক প্রফুলতা দেয়। যা মন ভাল রাখতে সহায়তা করে।
খেজুরের
পুষ্টিগুণ স্বাস্থ্যগুণ
৭।
খেজুরে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে, তবে শর্ত হচ্ছে খেজুর
খাওয়ার সাথে প্রচুর পানিও পান করতে হবে, তবেই উপযুক্ত ফল পাওয়া যাবে।
৮।
খাদ্যে অরুচি দূর করতে সহায়তা করে।
৯।
খেজুরে থাকা ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি দৃষ্টিশক্তি ভালো করতে সহায়তা করে।
১০।
খেজুরে থাকা পুষ্টি উপাদান ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে।
১১।
খেজুরে থাকা ডায়েটরি ফাইবার কলেস্টরেল এর সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।
১২।
খেজুরে আছে স্যলুবল এবং ইনস্যলুবল ফাইবার এবং বিভিন্ন অ্যামিনো এসিড যা খাবার হজমে
সাহায্য করে থাকে। তাই বদ হজম থেকে বাচতে
খেজুর খুবই উপকারী।
১৩। খেজুর তারুণ্য এবং যৌবন ধরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা
রাখে।
১৪। খেজুরে থাকা আয়রন রক্তশূন্যতা দূর করে।
খেজুরের ঔষধি গুনঃ
খেজুর
বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে যকৃতের সংক্রমণ এবং
সর্দি, কাশি, জ্বর প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।
এছাড়া
বদহজম, উচ্চরক্তচাপ, রক্তশূন্যতা ইত্যাদি সমস্যায় খেজুর উপকারী।
অপকারিতা
বা সতর্কতাঃ
খেজুরের
অসংখ্য উপকারিতা থাকলেও কিছু কিছু ক্ষত্রে খেজুর গ্রহনে সতর্ক হওয়া উচিত।যাদের
ডায়াবেটিস রয়েছে তারা খেজুর গ্রহণের পূর্বে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ
করবেন এবং যাদের দেহে পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি তার খেজুর খাওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা
অবলম্বন করবেন।
আমাদের
এই পোস্টটি ভাল লাগলে অবশ্যই সবার সাথে শেয়ার করুন। এবং আমাদের সাইট ব্রাউজ করে
আরো মজার মজার তথ্য জানুন। তাছাড়া আমরা আছি ফেসবুক এবং টুইটারে।
0 Comments